Header Ads

Header ADS

সততার পুরস্কার মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র

 


📝 সততার পুরস্কার ও লেখক পরিচিতি

✍️ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একজন বিখ্যাত ভাষাবিদ, লেখক ও গবেষক। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

🔹 জন্ম পরিচয়

  • জন্ম: ১০ জুলাই, ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ

  • স্থান: পেয়ারা গ্রাম, চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ

🎓 শিক্ষাজীবন

  • বিএ (অনার্স) – ১৯১০, কলকাতা সিটি কলেজ (সংস্কৃত)

  • এমএ – ১৯১২, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব)

  • ডক্টরেট – সোরবন বিশ্ববিদ্যালয়, প্যারিস

👨‍🏫 কর্মজীবন

  • শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে

  • গবেষণা করেছেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বৌদ্ধ গানে

📚 সাহিত্যকর্ম

  • শিশুদের বই: শেষ নবীর সন্ধানে, গল্প মঞ্জুরী, ছোটদের রসুলুল্লাহ

  • অনুবাদ: দীওয়ানে হাফিজ, অমিয় শতক

  • সম্পাদনা: বাংলা ভাষার আঞ্চলিক অভিধান, শিশু পত্রিকা 'আঙুর'

🕊️ মৃত্যু

  • ১৩ জুলাই, ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ


🌟 গুরুত্বপূর্ণ লাইনসমূহ (বর্ণনামূলকভাবে):

  1. "আল্লাহ তাদের পরীক্ষার জন্য এক ফেরেশতা পাঠালেন।"
    ➤ এটি গল্পের মূল বিষয় বোঝায়—আল্লাহ মানুষের ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা পরীক্ষা করেন।

  2. "ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে সকল কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের দেখতে পায় না।"
    ➤ এতে বোঝা যায় ফেরেশতারা নূরের তৈরি এবং আল্লাহর আজ্ঞাবহ।

  3. "যিনি তোমাকে সুস্থতা ও ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তাঁর দোহাই দিয়ে একটি উট/গাভি/ছাগল চাই।"
    ➤ ফেরেশতা যখন সাহায্য চান, তখন প্রত্যেকে একটাই কথা বলেন—আল্লাহর দোহাই দিয়ে।

  4. "আমি যেন তোমাকে চিনতে পারি... তুমি না আগে ধবলরোগী ছিলে?"
    ➤ ফেরেশতা তাকে তার পুরোনো অবস্থার কথা মনে করিয়ে দেন।

  5. "আচ্ছা, যদি তুমি মিথ্যা বলো, তবে আল্লাহ যেন তোমাকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।"
    ➤ এই লাইনটি সতর্কতা ও বিচার প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়।

  6. "তুমি যা চাও লও। আল্লাহর কসম, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কিছু চাইলে আমি না দিলে নিজেকে ভালো লোক বলতে পারব না।"
    ➤ এই লাইন অন্ধ ব্যক্তির কৃতজ্ঞতা ও উদারতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

  7. "তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তোমার (অন্ধের) উপর খুশি হয়েছেন, আর বাকি দুজনের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।"
    ➤ এটি হলো গল্পের চূড়ান্ত শিক্ষণীয় অংশ।


📚 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও শিক্ষণীয় দিক:

  1. তিনজন দরিদ্র ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন:

    • একজন ধবলরোগী (সারা শরীরে সাদা দাগ),

    • একজন টাকওয়ালা (মাথায় চুল ছিল না),

    • একজন অন্ধ (দৃষ্টি ছিল না)।

  2. আল্লাহ তাদের পরীক্ষা নিতে এক ফেরেশতা পাঠান।
    তিনি মানুষের রূপ ধরে প্রত্যেককে সুস্থতা ও ধন-সম্পদ দান করেন।

  3. প্রত্যেকেই নিজের পছন্দমতো একটি করে পশু পায় –
    ➤ ধবলরোগী: উট
    ➤ টাকওয়ালা: গাভি
    ➤ অন্ধ: ছাগল

  4. পরে ফেরেশতা আবার তাদের কাছে ফিরে গিয়ে সাহায্য চান।
    ➤ ধবলরোগী ও টাকওয়ালা নিজেদের পুরোনো অবস্থা অস্বীকার করে, মিথ্যা বলে ও কিছুই দেয় না।
    ➤ কিন্তু অন্ধ ব্যক্তি সব কিছু স্বীকার করে এবং খোলা মনে সাহায্য করতে রাজি হয়।

  5. শেষে ফেরেশতা বলেন:
    ➤ "তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।"
    ➤ "আল্লাহ অন্ধ ব্যক্তির উপর খুশি হয়েছেন।"
    ➤ "বাকি দুজনের উপর তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।"


📘 মূল শিক্ষা:

  • আল্লাহর দান অস্বীকার করা ও মিথ্যা বলা মহাপাপ।

  • আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও দানশীল বান্দাকে ভালোবাসেন।

  • আল্লাহ মানুষের অন্তরের খবর জানেন এবং সবাইকে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করেন।



📘 পাঠ পরিচিতি / বস্তুসংক্ষেপ:

সাধুরীতিতে রচিত এই গল্পে হাদিসের কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। এ গল্পের মূল বাণী হচ্ছে আল্লাহ্ মানুষকে পরীক্ষা করেন এবং সৎ লোককে যথাযথ পুরস্কার দেন।
আরব দেশের তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ্ একজন ফেরেশতাকে পাঠান। এক জন কুষ্ঠরোগী, এক জন টাকওয়ালা এবং এক জন অন্ধ।
ফেরেশতার অনুগ্রহে তারা শারীরিক রোগ ও ত্রুটি দূর হলো। তারা আল্লাহর কৃপায় সুন্দর চেহারা, অনেক উট, গাভী ও ছাগলের মালিক হয়।
কিছুদিন পর পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ ফেরেশতাকে গরিব বিদেশির ছদ্মবেশে তাদের কাছে পাঠালেন। ফেরেশতা এক-একজনের কাছে গিয়ে তাদের আগের দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকে কিছু সাহায্য করতে বলেন।
প্রথম দুজন তাদের আগের অবস্থার কথা অস্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে খালি হাতে বিদায় দেয়। কিন্তু তৃতীয়জন নির্দ্বিধায় আল্লাহর দান স্বীকার করে ফেরেশতাকে তাঁর ইচ্ছামতো সবকিছু দিতে রাজি হয়।
এতে আল্লাহ্ তার ওপর খুশি হন এবং তার সম্পদ বজায় রাখেন। কিন্তু প্রথম দুজনের ব্যবহারে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের অবস্থা আগের মতো হয়ে গেল। তারা তাদের অকৃতজ্ঞতার কারণে শাস্তি পেল।



শীর্ষস্থানীয় স্কুলসমূহের প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: স্বর্গীয় দূত আরব দেশের কতজন লোককে পরীক্ষা করেছিলেন?
উত্তর: স্বর্গীয় দূত আরব দেশের তিনজন লোককে পরীক্ষা করেছিলেন।

প্রশ্ন ২: ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরে প্রথমে কোন ব্যক্তির নিকট আসেন?
উত্তর: ধবল রোগীর নিকট।

প্রশ্ন ৩: টাকওয়ালাকে ফেরেশতা কী দিয়েছিলেন?
উত্তর: একটি গাভিন গাই।

প্রশ্ন ৪: কে নূরের তৈরি?
উত্তর: ফেরেশতা।


পাঠ্যবই বিশ্লেষিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ৫: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রামের নাম কী?
উত্তর: পেয়ারা গ্রাম।

প্রশ্ন ৬: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মৃত্যুবরণ করেন কত সালে?
উত্তর: ১৯৬৯ সালে।

প্রশ্ন ৭: ফেরেশতা তিন ইহুদির কী পরীক্ষা করেছিলেন?
উত্তর: সততার পরীক্ষা।

প্রশ্ন ৮: 'নূর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: জ্যোতি বা আলো।

প্রশ্ন ৯: ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্য ব্যক্তি কোন বংশের ছিল?
উত্তর: ইহুদি বংশের।

প্রশ্ন ১০: ধবল রোগীকে ফেরেশতা কী দিয়েছিলেন?
উত্তর: একটি গাভিন উট।

প্রশ্ন ১১: অন্ধ লোকটিকে ফেরেশতা কী দিয়েছিলেন?
উত্তর: একটি গাভিন ছাগল।

প্রশ্ন ১২: ফেরেশতা কিসের রূপ ধরে এসেছিলেন?
উত্তর: মানুষের রূপ ধরে।

প্রশ্ন ১৩: দ্বিতীয়বার ফেরেশতা নিজেকে কী বলে পরিচয় দেন?
উত্তর: এক বিদেশি বলে।

প্রশ্ন ১৪: 'সততার পুরস্কার' গল্পে কে কৃতজ্ঞ ছিল?
উত্তর: অন্ধ লোকটি।

প্রশ্ন ১৫: সততার পুরস্কার কে পেয়েছিল?
উত্তর: অন্ধ লোকটি।

প্রশ্ন ১৬: ধবলরোগীকে ফেরেশতা কী শাস্তি দিয়েছিলেন?
উত্তর: আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১৭: আল্লাহ কার ওপর খুশি হয়েছিলেন?
উত্তর: অন্ধ লোকটির ওপর।


অনুচ্ছেদভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১৮: ফেরেশতা মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন কেন?
উত্তর: আরব বংশের তিনজন লোকের (ধবলরোগী, টাকওয়ালা, অন্ধ) সততা পরীক্ষা করার জন্য।

প্রশ্ন ১৯: ধবলরোগীর গায়ের চামড়া কীভাবে ভালো হয়?
উত্তর: ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলে রোগ ভালো হয়ে যায়।

প্রশ্ন ২০: আল্লাহ কেন অন্ধ লোকটির ওপর খুশি হয়েছেন?
উত্তর: সে কৃতজ্ঞচিত্তে সাহায্য করায় আল্লাহ খুশি হন।

প্রশ্ন ২১: "সকলে যে আমাকে বড় ঘৃণা করে"— ধবলরোগী কথাটি কেন বলে?
উত্তর: সে তার রোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলে, সবাই তাকে ঘৃণা করত।

প্রশ্ন ২২: "উটের অনেক দাম, কী করিয়া দিই" — ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ধবলরোগী ফেরেশতার অনুরোধ ফিরিয়ে দিতে এই কথা বলে।

প্রশ্ন ২৩: "এখন আল্লাহর দয়া ছাড়া আমার দেশে পৌছিবার আর কোনো উপায় নাই" — কেন বলেন?
উত্তর: ফেরেশতা অসহায় পথিক সেজে অন্ধ লোকের কৃতজ্ঞতা পরীক্ষা করতে বলেন।


সততার পুরস্কার গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর

১. স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন কেন?
উত্তর: ফেরেশতা হলেন আল্লাহর দূত। তাঁরা নূরের তৈরি।
মহান আল্লাহ মানব জাতিকে কখনো কখনো পরীক্ষা করে থাকেন। এ পরীক্ষা তিনি সবাইকে একইভাবে করেন না। আল্লাহ তায়ালা এমনিভাবে তিনজন ইহুদিকে পরীক্ষা করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলেন। আর এ কাজের দায়িত্ব দেন একজন ফেরেশতার উপর। আল্লাহর দেওয়া হুকুম পালন করে ইহুদিদেরকে পরীক্ষা করার জন্য স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।

২. এক ফেরেশতা কী জন্য ইহুদি বংশের তিন লোকের কাছে গিয়েছিলেন?
উত্তর: আল্লাহর নির্দেশে এক ফেরেশতা ইহুদি বংশের তিন লোকের কাছে গিয়েছিল তাদের পরীক্ষা করার জন্য।
আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ ব্যক্তির কাছে গেল। পূর্বে রোগমুক্তির পাশাপাশি তারা উট, গাভি, ছাগল ইত্যাদি লাভ করেছিল। যা পরবর্তীতে বহুগুণে বর্ধিত হয়। এবার ফেরেশতা তাদের কাছে একটি উট, গাভি ও ছাগল চাইলে অন্ধ ব্যক্তিটি ছাড়া বাকি দুজন তা দিতে অস্বীকার করল। অন্ধ ব্যক্তি তার সততার পুরস্কার পেলেও অন্য দুজন সম্পদ হারিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল।

৩. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের তিনজনের সমস্যাগুলো কী ছিল?
উত্তর: গল্পের তিনজন প্রধান চরিত্র হলেন—একজন ধবলরোগী, একজন টাকওয়ালা, এবং একজন অন্ধ। ধবলরোগীর গায়ের চামড়া বিকৃত ছিল, টাকওয়ালার মাথায় চুল ছিল না, এবং অন্ধ ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তিহীন ছিল। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের শারীরিক সমস্যার কারণে সমাজে অবহেলিত ছিল এবং আল্লাহর কৃপা কামনা করত।

৪. ফেরেশতা কীভাবে ধবলরোগী ও টাকওয়ালাকে শাস্তি দেন?
উত্তর: ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ধবলরোগী ও টাকওয়ালার কাছে সাহায্য চাইতে যান। কিন্তু তখন তিনি তাদের মধ্যে মিথ্যা ও অকৃতজ্ঞতা লক্ষ্য করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি চান, তবে তিনি তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।” আর এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে আল্লাহর অনুগ্রহ কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য, অকৃতজ্ঞদের জন্য নয়।

৫. গল্পে ফেরেশতা কেন অন্ধ ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেন?
উত্তর: ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে অন্ধ ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে আসেন। তখন অন্ধ ব্যক্তি আল্লাহর কৃপা স্বীকার করে এবং দানের সময় বিনয়ের সাথে বলেন, “আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে আমি খুশি মনে দান করতে রাজি।” তার এই সততা ও কৃতজ্ঞতায় ফেরেশতা খুশি হন এবং বলেন যে আল্লাহ তাকে আরও বরকত দেবেন।

সততার পুরস্কার গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর

৬. তিন ব্যক্তির কীভাবে রোগমুক্ত হয়েছিল?
উত্তর: ‘সততার পুরস্কার’ গল্পে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতার মাধ্যমে রোগমুক্ত হয়েছিল।
তিন ব্যক্তি ছিল ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ। ফেরেশতা গায়ে হাত ঝুলিয়ে দিলে ধবলরোগী, মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে টাকওয়ালা ও চোখে হাত বুলিয়ে দিলে অন্ধব্যক্তি রোগমুক্ত ও সুস্থ হয়ে যায়।

৭. অন্ধ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ খুশি হয়েছেন কেন?
উত্তর: অন্ধ ব্যক্তির সততা ও কৃতজ্ঞতাবোধের কারণে আল্লাহ তার প্রতি খুশি হয়েছেন।
অন্ধ ব্যক্তিকে তার প্রার্থনা অনুযায়ী তার অন্ধত্ব দূর করা হয়েছিল। সচ্ছলতার জন্য তাকে দেয়া হয়েছিল একটি গাভিন ছাগল। সে গরিব থেকে আমিরে পরিণত হয়েছিল। তার কাছে যখন ছদ্মবেশি ফেরেশতা একটি ছাগল চাইল তখন সে তা প্রদানের জন্য সম্মত হলো। তার এই কৃতজ্ঞতাবোধের কারণে আল্লাহর তার প্রতি খুশি হলেন।

৮. ‘ফেরেশতা হইলেন আল্লাহর দূত’—কথাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফেরেশতা হচ্ছেন আল্লাহর দূত। ‘দূত’ অর্থ বার্তাবাহক।
ফেরেশতা আল্লাহ্র আদেশ নির্দেশ মানুষের কাছে অর্থাৎ আল্লাহ্র বান্দার কাছে পৌঁছে দেয়। আল্লাহর নির্দেশে কাজ করেন। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন যা বলেন বা নির্দেশ দেন তা পালন করাই তাঁদের একমাত্র কাজ।

৯. ধবলরোগীকে গাভিন গাই কেন দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: ধবলরোগীকে তার দারিদ্র্য দশা হতে মুক্তির জন্য গাভীন গাই দেওয়া হয়েছিল।
ধবলরোগী রোগশোকে জর্জরিত ছিল। কাজ করতে পারত না। সমাজে তার মর্যাদা ছিল না। তার সততা ও কৃতজ্ঞতা পরীক্ষা করতে তাকে গাভিন গাই দেওয়া হয়েছিল।

১০. ধবলরোগী আর টাকওয়ালার ব্যবহার কেমন ছিল?
উত্তর: গরীব থেকে ধনী হওয়ার পরে ধবলরোগী আর টাকওয়ালা অহংকারী হয়ে পড়ল। তারা নিজেদের পুরনো দুঃখ-কষ্ট একেবারেই ভুলে গিয়েছিল। যখন ফেরেশতা ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে তাদের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইল, তখন তারা সম্পদ দিতে অস্বীকার করল। শুধু তাই নয়, তারা মিথ্যা বলে দাবি করল যে, তারা কখনো গরিব বা অসুস্থ ছিল না! এতে করে তাদের অহংকারী এবং আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।


নিচে তোমার MCQ প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তরগুলো দেওয়া হলো:

সততার পুরস্কার

১. সততার পুরস্কার গল্পের লেখক কে?
ক. সৈয়দ মুজতবা আলী
খ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
গ. কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ. শওকত ওসমান

২. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৮৫৫
খ. ১৮৬৫
গ. ১৮৮৫
ঘ. ১৮৯৫

৩. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯৪৯
খ. ১৯৫৪
গ. ১৯৬৯
ঘ. ১৯৭১

৪. প্রথম ইহুদি ব্যক্তির সর্বাঙ্গ কেমন ছিল?
ক. রক্তাক্ত
খ. ধবল
গ. লাল
ঘ. কালো

৫. তৃতীয় ইহুদি ব্যক্তিটির কী সমস্যা ছিল?
ক. মাথায় টাক
খ. পঙ্গুত্ব
গ. ধবল রোগ
ঘ. অন্ধত্ব

৬. ফেরেশতারা কী দিয়ে তৈরি?
ক. মাটি
খ. নূর
গ. পানি
ঘ. গাছ

৭. ফেরেশতাকে ইহুদিদের কাছে কে পাঠালেন?
ক. নবি
খ. আল্লাহ
গ. মন্ত্রী
ঘ. রাজা

৮. মানুষ কেন ফেরেশতাদের দেখতে পায় না?
ক. পানির তৈরি বলে
খ. বাতাসের তৈরি বলে
গ. নূরের তৈরি বলে
ঘ. বিদ্যুতের তৈরি বলে

৯. ফেরেশতারা কার হুকুম পালন করেন?
ক. নবির
খ. মন্ত্রীর
গ. আল্লাহর
ঘ. রাজার

১০. ফেরেশতা কিসের রূপ ধরে ইহুদিদের কাছে এলেন?
ক. কবুতরের
খ. উটের
গ. গরুর
ঘ. মানুষের

১১. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পে ইহুদি বংশের কয়জন লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
ক. পাঁচজন
খ. চারজন
গ. তিনজন
ঘ. দুজন

১২. ফেরেশতা কোন ইহুদির কাছে প্রথম আসেন?
ক. খঞ্জের
খ. ধবল রোগীর
গ. অন্ধের
ঘ. টাকওয়ালার

১৩. ধবল রোগীকে সবাই কোন দৃষ্টিতে দেখত?
ক. স্নেহের
খ. ঘৃণার
গ. সম্মানের
ঘ. শ্রদ্ধার

১৪. স্বর্গীয় দূত ধবল রোগীকে কীভাবে ভালো করে তুললেন?
ক. গায়ে হাত বুলিয়ে
খ. গায়ে পানি দিয়ে
গ. গায়ে আগুন দিয়ে
ঘ. গলায় তাবিজ দিয়ে

১৫. সুস্থ হয়ে ধবল রোগী স্বর্গীয় দূতের কাছে কী চাইলেন?
ক. গরু
খ. ছাগল
গ. মহিষ
ঘ. গাভি

১৬. স্বর্গীয় দূত ধবল রোগীকে কেমন উট দিয়েছিলেন?
ক. গাভিন উট
খ. বয়স্ক উট
গ. বাচ্চা উট
ঘ. বন্ধ্যা উট

১৭. টাকওয়ালা ইহুদি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে কোন জিনিসটা?
ক. খেজুরের বাগান
খ. মাথাভর্তি চুল
গ. উর্বর জমি
ঘ. প্রচুর টাকা

১৮. স্বর্গীয় দূত অন্ধের কাছে গিয়ে কী বললেন?
ক. তোমার চোখ কীভাবে নষ্ট হলো
খ. তুমি কী সবচেয়ে বেশি ভালোবাসো
গ. তুমি কি চোখে দেখতে পাও না
ঘ. তোমার চোখ এখন কেমন

১৯. ছাগল, গাভি ও উটে কী বোঝাই হয়ে গেল?
ক. গ্রাম
খ. দেশ
গ. মাঠ
ঘ. ঘাট

২০. পুনরায় এসে ফেরেশতা নিজেকে কী বলে পরিচয় দিলেন?
ক. মুসাফির
খ. বিদেশি
গ. ফকির
ঘ. শিক্ষক

২১. বিদেশি তার কী ফুরিয়ে গেছে বলে ধবল রোগীকে জানালেন?
ক. পুঁজি
খ. পণ্য
গ. শক্তি
ঘ. ধৈর্য

২২. ফেরেশতা একটি উট চাইলে ধবল রোগী কী বলল?
ক. উট কিনে নাও
খ. উট দেওয়া নিষেধ
গ. উটের অনেক দাম
ঘ. উট তো নেই

২৩. পুনরায় এসে স্বর্গীয় দূত তৃতীয় ইহুদির কাছে কী ফুরিয়ে গেছে বলে জানালেন?
ক. উত্সাহ
খ. টাকা
গ. সম্বল
ঘ. পুঁজি

২৪. ফেরেশতা কার দোহাই দিয়ে ছাগল চেয়েছিলেন?
ক. আল্লাহর
খ. নিজের
গ. রাজার
ঘ. খলিফার

২৫. আগের অন্ধ ব্যক্তিটি গরিব থেকে বর্তমানে কী হয়েছে বলে স্বীকার করল?
ক. কৃষক
খ. খামারি
গ. আমির
ঘ. সম্রাট

২৬. ‘তুমি যাহা চাও লও’—উক্তিটি কার?
ক. অন্ধ ব্যক্তির
খ. ধবল রোগীর
গ. টাকওয়ালার
ঘ. ফেরেশতার

২৭. ইচ্ছেমতো জিনিস নেওয়ার জন্য আগের অন্ধ ব্যক্তি ফেরেশতাকে কার কসম দিয়েছিল?
ক. নিজের
খ. সুলতানের
গ. আল্লাহর
ঘ. মায়ের

২৮. উপযুক্ত আচরণের জন্য আল্লাহ কার প্রতি খুশি হয়েছিলেন?
ক. ফেরেশতার
খ. অন্ধ ব্যক্তির
গ. ধবল রোগীর
ঘ. টাকওয়ালার

২৯. অন্ধ ব্যক্তি ব্যতীত বাকিদের ওপর আল্লাহ কী হয়েছিলেন?
ক. ক্ষিপ্ত
খ. বেজার
গ. রুষ্ট
ঘ. বিরক্ত

৩০. ফেরেশতা ইহুদিদের কী পরীক্ষা করতে এসেছিলেন?
ক. সততা
খ. ক্ষমতা
গ. ধৈর্য
ঘ. অহমিকা

৩১. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পে কিসের জয় হলো?
ক. দরিদ্রতার
খ. সততার
গ. ভীরুতার
ঘ. সাহসিকতার

৩২. হজরত মুসা (আ.) প্রবর্তিত ধর্মের অনুসারীদের কী বলা হয়?
ক. বৌদ্ধ
খ. ইহুদি
গ. খ্রিষ্টান
ঘ. সনাতন

৩৩. ‘সর্বাঙ্গ’ শব্দের অর্থ কী?
ক. সারা দেশ
খ. সারা শরীর
গ. সারা মন
ঘ. সারা অঙ্গ

৩৪. ‘নূর’ শব্দের অর্থ কী?
ক. চরিত
খ. জ্যোতি
গ. মোম
ঘ. ভীতি

৩৫. ‘বেজার’ শব্দের অর্থ কী?
ক. দোহাই
খ. খুশি
গ. খুব
ঘ. অখুশি

৩৬. ফেরেশতা কেন ইহুদিদের কাছে এসেছিলেন?
ক. সাহায্য নেওয়ার জন্য
খ. পরীক্ষা নেওয়ার জন্য
গ. শিক্ষা দেওয়ার জন্য
ঘ. মূল্যায়ন করার জন্য

৩৭. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘সততার পুরস্কার’ গল্পে কী তুলে ধরেছেন?
ক. ফেরেশতাদের কাহিনি
খ. হাদিসের কাহিনি
গ. ইহুদিদের কাহিনি
ঘ. প্রাচীন রূপকথা

৩৮. গল্পে উল্লিখিত তিনজনের শারীরিক ত্রুটি কীভাবে দূর হয়?
ক. ফেরেশতার অনুগ্রহে
খ. সুন্দর আবহাওয়ায়
গ. কবিরাজের ঝাড়ফুঁকে
ঘ. ডাক্তারের চিকিত্সায়

৩৯. তৃতীয় ইহুদি কীভাবে ফেরেশতাকে তার ইচ্ছেমতো সবকিছু দিতে রাজি হলো?
ক. নির্ভয়ে
খ. চিন্তিত মনে
গ. নির্দ্বিধায়
ঘ. ভয়ে ভয়ে

৪০. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পে প্রথম দুই ইহুদি তাদের অকৃতজ্ঞতার জন্য কী পেল?
ক. পূর্বাবস্থা
খ. ভর্ৎসনা
গ. রোগব্যাধি
ঘ. ধনসম্পদ

৪১. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কোন গ্রন্থটির সম্পাদনা অসামান্য কীর্তি হিসেবে বিবেচিত?
ক. বাংলা ভাষার আঞ্চলিক অভিধান
খ. বাংলা ভাষার উচ্চারণ অভিধান
গ. বাংলা ভাষার বুত্পত্তি অভিধান
ঘ. বাংলা ভাষার লেখক অভিধান

৪২. তৃতীয় ব্যক্তি ফেরেশতাকে সবকিছু দিতে রাজি হয়েছিল কেন?
ক. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকায়
খ. ছাগলের সংখ্যা বেশি হয়েছিল বলে
গ. ধনসম্পদের দরকার ছিল না বলে
ঘ. দয়ালু ছিলেন বলে

৪৩. টাকওয়ালা ইহুদি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে কোন জিনিসটি?
ক. প্রচুর টাকা
খ. উর্বর জমি
গ. মাথাভর্তি চুল
ঘ. খেজুরের বাগান

৪৪. ফেরেশতা একটি উট চাইলে ধবলরোগী কী বলল?
ক. উট তো নাই
খ. উটের অনেক দাম
গ. উট দেওয়া নিষেধ
ঘ. উট কিনে নাও

৪৫. ফেরেশতা কার দোহাই দিয়ে ছাগল চেয়েছিলেন?
ক. খলিফার
খ. রাজার
গ. নিজের
ঘ. আল্লাহর

৪৬. ‘তুমি যাহা চাও, লও’—উক্তিটি কার?
ক. ফেরেশতার
খ. টাকওয়ালার
গ. ধবলরোগীর
ঘ. অন্ধ ব্যক্তির

৪৭. উপযুক্ত আচরণের জন্য আল্লাহ কার ওপর খুশি হয়েছিলেন?
ক. টাকওয়ালার
খ. ধবলরোগীর
গ. অন্ধ ব্যক্তির
ঘ. ফেরেশতার

৪৮. ‘সততার পুরস্কার’ গল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পরিচয় দিতে পারব—
i. সততার
ii. সাহসিকতার
iii. নৈতিক মূল্যবোধের
খ. i ও iii

৪৯. কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের কী বলা হয়?
ক. হাঁপানি রোগী
খ. ধবল রোগী
গ. মৃগী রোগী
ঘ. অর্শ রোগী

৫০. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কোন কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছেন?
ক. হাদিসের
খ. কোরআনের
গ. ইজমার
ঘ. কিয়াসের


সততার পুরস্কার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন—১: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কালাম, আবুল ও হাফিজ একই গ্রামে বাস করে। তাদের অবস্থা তেমন ভালো নয়। কোনো মতে দিন অতিবাহিত করে। এ কারণে হাজি সাহেব তার যাকাতের টাকা দিয়ে আবুলকে একটা রিক্সা, কালামকে একটা ভ্যানগাড়ি আর হাফিজকে একটা সেলাই মেশিন কিনে দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা পরিশ্রম করে খাও, আর তোমাদের সাধ্যমতো গরিব মানুষের উপকার করো। কিছুদিন পর হাজি সাহেব তাদের পরীক্ষা করার জন্য এক ভিক্ষুককে পাঠালেন তাদের কাছে সাহায্য চাইতে। আবুল আর কালাম কোনো সাহায্যই করলো না। কিন্তু হাফিজ বিনা পয়সায় ভিক্ষুকের জামাটা সেলাই করে দিল।

ক. স্বর্গীয় দূত কতজন ইহুদিকে পরীক্ষা করেছিলেন?
খ. স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন কেন?
গ. কালাম ও আবুলের কাজের মধ্যে ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের যে দিকটি প্রতিফলিত তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘হাফিজের কাজের মধ্যেই ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত’—কথাটি বিশ্লেষণ কর।

১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. স্বর্গীয় দূত তিনজন ইহুদিকে পরীক্ষা করেছিলেন।

খ. ফেরেশতা হলেন আল্লাহর দূত। তাঁরা নূরের তৈরি।
মহান আল্লাহ মানব জাতিকে কখনো কখনো পরীক্ষা করে থাকেন। এ পরীক্ষা তিনি সবাইকে একইভাবে করেন না। আল্লাহ তায়ালা এমনিভাবে তিনজন ইহুদিকে পরীক্ষা করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলেন। আর এ কাজের দায়িত্ব দেন একজন ফেরেশতার উপর। আল্লাহর দেওয়া হুকুম পালন করে ইহুদিদেরকে পরীক্ষা করার জন্য স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।

গ. কামাল ও আবুলের কাজের মাঝে সততার পুরস্কার গল্পের ধবলরোগী ও টাকওয়ালার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

সততার পুরস্কার গল্পে আমরা দেখতে পাই ধবলরোগী ও টাকওয়ালা আল্লাহর কৃপায় স্বর্গীয় দূতের সাহায্যে ভালো হয়েছে। তারা দূতের দেওয়া উট ও গাই পেয়ে প্রচুর উট ও গাভীর মালিক হয়ে সুখে দিন অতিবাহিত করছে। কিন্তু ঐ দূত যখন পুনরায় ছদ্মবেশ ধারণ করে তাদের কাছে সাহায্যের জন্য আসেন তখন তারা তাদের পূর্বের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং দূতকে সাহায্য না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।

পক্ষান্তরে আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই হাজী মকবুল সাহেব অর্থ দিয়ে আবুলকে একটি রিক্সা এবং কালামকে একটি ভ্যান গাড়ি কিনে দেন। এর ফলে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু তাদের পরীক্ষা করার জন্য যখন হাজী সাহেব এক ভিক্ষুককে পাঠালেন তখন তারা তাকে সাহায্য না করেই ফিরিয়ে দেয়। তাই কালাম ও আবুলকে একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি বলা যায়। আর উদ্দীপকে গল্পের এ অকৃতজ্ঞ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে। আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন এবং সৎ লোককে যথাযথ পুরস্কার দেন।

ঘ. সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় তুলে ধরাই ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের মূল শিক্ষা, যা উদ্দীপকের হাফিজ চরিত্রের মাঝে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে।

‘সততার পুরস্কার’ গল্পে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যা তৃতীয় ব্যক্তি তথা অন্ধ ইহুদির আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। বিদেশি বিপদগ্রস্ত লোকটিকে সাহায্যার্থে পছন্দমতো জিনিস নেওয়ার আন্তরিক অনুরোধ করেছে।

উদ্দীপকের হাফিজ দরিদ্র অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। হাজী সাহেবের দেওয়া সেলাই মেশিন হাফিজের অবস্থা বদলে দিয়েছে। এ জন্য সে সব সময় আলস্নাহর নিকট কৃতজ্ঞ থেকেছে। আর তাই অসহায় দরিদ্র ভিক্ষুক তার কাছে এলে সে ভিক্ষুকের জামাটা বিনে পয়সায় সেলাই করে দিয়ে কৃতজ্ঞতা ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে।
‘সততার পুরস্কার’ গল্পের তৃতীয় ইহুদি এবং উদ্দীপকের হাফিজের মনোভাব একই ধরনের। নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন হলেও তারা অতীতকে ভুলে যায়নি। দরিদ্র অসহায়কে সহায়তা করে তারা নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে। আর এটিই হচ্ছে ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের মূল শিক্ষা। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃজনশীল প্রশ্ন—২: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
একবার কাঁটা ফুটল বাঘের গলায়। এ নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়ল বাঘ। উপায়ান্তর না পেয়ে শরণাপন্ন হলো বকের। বড় বকশিশ পাবে এই আশায় বক কাঁটা বের করতে রাজি হলো। কথামতো বক তার লম্বা ঠোঁট বাঘের গলায় ঢুকিয়ে কাঁটা বের করে নিয়ে এলো। স্বস্তি পেল বাঘ। বক এবার তার বকশিশ চাইলে বাঘ বলল “তুই আমার মুখে গলা ঢুকিয়েছিলি তখন যে চিবিয়ে খাইনি তাইতো বেশি।”

ক. কে বহুভাষাবিদ পণ্ডিত ছিলেন?
খ. এক ফেরেশতা কী জন্য ইহুদি বংশের তিন লোকের কাছে গিয়েছিলেন?
গ. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের তিন ব্যক্তি এবং উদ্দীপকের বাঘটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

২ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বহুভাষাবিদ পণ্ডিত।

খ. আল্লাহর নির্দেশে এক ফেরেশতা ইহুদি বংশের তিন লোকের কাছে গিয়েছিল তাদের পরীক্ষা করার জন্য।

আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা ধবলরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ ব্যক্তির কাছে গেল। পূর্বে রোগমুক্তির পাশাপাশি তারা উট, গাভি, ছাগল ইত্যাদি লাভ করেছিল। যা পরবর্তীতে বহুগুণে বর্ধিত হয়। এবার ফেরেশতা তাদের কাছে একটি উট, গাভি ও ছাগল চাইলে অন্ধ ব্যক্তিটি ছাড়া বাকি দুজন তা দিতে অস্বীকার করল। অন্ধ ব্যক্তি তার সততার পুরস্কার পেলেও অন্য দুজন সম্পদ হারিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল।

গ. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে ধবলরোগী, টাকওয়ালা এবং বাঘ সকলেই ছিল চরমভাবে অকৃতজ্ঞ।

‘সততার পুরস্কার’ গল্পে আল্লাহর নির্দেশে এক ফেরেশতা ধবলরোগী টাকওয়ালা ও অন্ধ ব্যক্তির রোগমুক্তি দান করে এবং তাদের অতিরিক্ত দান হিসেবে উট, গাভি ও ছাগল প্রদান করে। যা পরবর্তীতে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। কিছুদিন পর ঐ ফেরেশতা তাদের কাছে একটি উট, একটি গাভি ও একটি ছাগল চাইলে প্রথম দুজন তা প্রদান করতে অস্বীকার করে। কিন্তু অন্ধ ব্যক্তি তার পূর্বের অবস্থা স্মরণ করল এবং মানুষরূপী ফেরেশতাকে যা খুশি তা ইচ্ছেমতো নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। উদ্দীপকের বাঘ তার গলায় কাঁটা ফুটে যাওয়ার কারণে মহাবিপদের সম্মুখীন হলো এবং লম্বা ঠোঁটওয়ালা বককে অনুরোধ করে তার কাঁটা বের করে দেওয়ার জন্য। এ কাজ করার বিনিময়ে বকশিশ প্রদানের ওয়াদাও করে বাঘ। বক কাঁটা বের করে দেয়ার পর বকশিশ চাইলে, বাঘ রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। ক্ষুদ্র একটি বকের পক্ষে করার কিছুই ছিল না।

‘সততার পুরস্কার’ গল্পের প্রথম দু’ব্যক্তি রোগমুক্ত হয়ে সচ্ছল জীবনযাপন শুরু করলেও তারা ভুলে যায় তাদের অতীত। এর ঠিক বিপরীত আচরণ করে অন্ধ ব্যক্তিটি। যে তার অতীতকে মনে রেখেছে। উদ্দীপকের বাঘটি বকের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়েছে। সে তার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। বাঘের ভূমিকা ন্যক্কারজনক। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের দুজন ব্যক্তির অকৃতজ্ঞতার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপকের বক একটি অকৃতজ্ঞ চরিত্র যাকে ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের অন্ধ ব্যক্তির বিপরীত চরিত্র হিসেবে গণ্য করা যায়।

‘সততার পুরস্কার’ গল্পে ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট তার কি চাই জিজ্ঞাসা করলেন। অন্ধ ব্যক্তি বললেন, ‘আমার চোখ ভালো করিয়া দিন।’। স্বর্গীয় দূত তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলে তার চোখ ভালো হয়ে গেল। দূত তাঁর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একটি গাভিন ছাগলও প্রদান করলেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বস্ততা ও সততা পরীক্ষার জন্য ঐ ফেরেশতা কিছুদিন পর আবার তার কাছে এলেন। ফেরেশতা তার সাহায্য হিসেবে একটি ছাগল চাইলে সন্তুষ্টচিত্তে তা প্রদানে সম্মত হলেন। সৃষ্টিকর্তা তার সততা ও কৃতজ্ঞতাবোধে সন্তুষ্ট হলেন।

উদ্দীপকের বাঘ হিংস্র প্রাণী হলেও গলায় কাঁটা ফুটলে সে শরণাপন্ন হয় লম্বা গলাবিশিষ্ট বকের। বককে বকশিশ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাঘের কথায় রাজি হয়ে বক বাঘের গলা থেকে কাঁটা বের করে দেয়। বক তার প্রাপ্য বকশিশ চাইলে বাঘ তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। তাকে গলার ভেতর পেয়েও যে বাঘ তাকে চিবিয়ে খায়নি তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

উদ্দীপকের বাঘ ও ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের অন্ধ ব্যক্তির চরিত্র মূল্যায়ন করলে আমরা পাই বাঘ চরম অকৃতজ্ঞ ও স্বার্থপর একটি চরিত্র আর অন্ধ ব্যক্তি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। সে তার পূর্বের দুরাবস্থার কথা মনে রেখেছে তাই অন্যের বিপদে সাহায্যের জন্য সে সদাপ্রস্তুত। তাই ফেরেশতা তার নিকট একটি ছাগল চাইলে সে যা চায় তাই নিতে অনুরোধ করেছে। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায় উদ্দীপকের বাঘের চরিত্রটি অন্ধ ব্যক্তির বিপরীত ও একটি অকৃতজ্ঞ চরিত্র।


সৃজনশীল প্রশ্ন—৩: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
“মসজিদে কাল শিরনি আছিল,—অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,
এমন সময় এলো মুসাফির গায় আজারির চিন
বলে, ‘বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
‘ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে নমাজ পড়িস বেটা?”

ক. ফেরেশতা কীসের তৈরি?
খ. তিন ব্যক্তির কীভাবে রোগমুক্ত হয়েছিল?
গ. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের কোন বিষয়টি উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করে কি—বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন—৪: নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী-’পরে।
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’

ক. আল্লাহর দূতের কাছে ধবলরোগী কি চেয়েছিল?
খ. অন্ধ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ খুশি হয়েছেন কেন?
গ. ‘উদ্দীপকের মূলভাব ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের মূলভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ’—ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের সমগ্রভাব উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে’—বিশ্লেষণ কর।

পাঠ-২: শব্দার্থ ও টীকা

📘 পাঠ-২: শব্দার্থ ও টীকা

শব্দ অর্থ
গাইগরু, গাভী
বিদেশিঅন্য দেশের মানুষ, প্রবাসী, ভিন্ন দেশবাসী
দয়া উপায়পথ বা প্রণালি, প্রতিকার, কৌশল, আয়, উপার্জন, রোজগার
সততাসাধুতা, ন্যায়পরায়ণতা (মানবচরিত্রের একটি মহৎ গুণ)
পুরস্কারবখশিশ, উপহার, ভালো কাজের জন্য দান
সেকালসুদূর অতীত, প্রাচীন কাল
ধনদৌলতঅর্থ ও সম্পত্তি, টাকা-পয়সা ও শস্যের আধিক্য
হুকুমআদেশ, নির্দেশ
গরিবদরিদ্র, অভাবী, দীনহীন
রূপআকৃতি, চেহারা
বরাবরইসব সময়েই, চিরদিনই, চিরকালই
অনুগ্রহকরুণা, কৃপা, পরের দুঃখ দূরীকরণ
ঘৃণাঅবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা, তাচ্ছিল্য, উপেক্ষা
মিথ্যাঅসত্য, বেঠিক, সত্য নয় এমন
রোগঅসুখ, ব্যাধি, পীড়া
ক্ষমতাশক্তি, সামর্থ্য, যোগ্যতা
গাভিনগর্ভবর্তী, গর্ভধারণ করেছে এমন গাই–গরু
জিনিসদ্রব্য, বস্তু, পদার্থ, বিষয়সম্পত্তি
ভাগ্যকপাল, তকদির, নসিব, নিয়তি
পরীক্ষাভালো–মন্দের যথার্থ বিচার, যাচাই–বাছাই

📝 বানান সতর্কতা: গরিব ✅ | গাভী ✅ | গাই ✅ | রোগ ✅ | অনুগ্রহ ✅

No comments

Powered by Blogger.